October 14, 2026, 12:38 am
যমুনা নিউজ বিডি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শেষ হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রথম ধাপে পাঁচ বিভাগের প্রায় ৪০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে মনোনয়ন বোর্ড। এতে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
দুই দিনের সাক্ষাৎকার পর্বের প্রথম দিনে শুক্রবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। প্রথম দিন চার শতাধিক প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার একই স্থানে বিকেল তিনটা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হবে।
গত বুধবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আর সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি আসন।
শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে নারী আসনে মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থী ও তার সমর্থকরা সমবেত হন। নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা শুধু প্রার্থীদের অফিসে প্রবেশ করতে দেন। অফিসের ভেতরে প্রার্থীদের বসার জন্য একটি নির্ধারিত স্থান ছিল। সেখানে তাদের বসানো হয়।
নারী আসনে প্রার্থী হতে যোগ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজ গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। গণতন্ত্রকে সচল ও শক্তিশালী করার জন্য এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মহিলারা যে অবদান রেখেছেন বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে, নিঃসন্দেহে তাদের সেই অবদানকে মূল্যায়ন করা হবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের অনেক মহিলা নেত্রী তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তারা শটগানের গুলি খেয়েছেন, তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাদের সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধু রাজনীতি করার কারণে এবং রাজনৈতিক আদর্শের কারণে। দল এসব বিষয় বিবেচনা করবে। পাশাপাশি সংসদে কথা বলা এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে জ্ঞান থাকা দরকার, যে শিক্ষা থাকা দরকার, এই বিষয়গুলোও এখানে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের যে মনোনয়ন বোর্ড তারা চূড়ান্ত করবেন কারা মহিলা সংসদ সদস্য হবেন।